গ্লিসারিন এবং ভিটামিন ই ক্যাপসুল একসাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে এটি ত্বকের যত্নে একটি কার্যকরী মিশ্রণ হিসেবে কাজ করে। নিচে এর প্রভাব ও ব্যবহার তুলে ধরা হলো:
কী হয় মিশালে:
-
ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে: গ্লিসারিন ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন ই স্কিনকে পুষ্টি দেয় ও পুনরুজ্জীবিত করে।
-
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে: নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়।
-
ব্রণের দাগ ও রঙ ফর্সা করতে সহায়ক: ভিটামিন ই দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।
-
অ্যান্টি-এজিং প্রভাব: ভিটামিন ই-তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা বলিরেখা হ্রাসে সহায়তা করতে পারে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন:
-
১ চা চামচ গ্লিসারিনে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল (যেমন Evion 400) ছিদ্র করে এর তেল মিশিয়ে নিন।
-
রাতে মুখ ধুয়ে এই মিশ্রণটি হালকা হাতে ত্বকে লাগান।
-
সকালে ধুয়ে ফেলুন।
সতর্কতা:
-
অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ করতে পারে।
-
প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতে বা কানে একটি ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন (patch test)।
আপনি বয়সের ছাপ, মুখের গর্ত (যেমন ব্রণের গর্ত) ও ছোপ (ডার্ক স্পট) দূর করে চেহারায় প্রাকৃতিক লাবণ্য ফিরে পেতে চাইলে গ্লিসারিন ও ভিটামিন ই-এর পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত উপাদান ও নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করলে ভালো ফল পাবেন।
প্রাকৃতিক ফর্মুলা (রাতের জন্য):
উপকরণ:
-
গ্লিসারিন – ১ চা চামচ
-
ভিটামিন ই ক্যাপসুল – ১টি (Evion 400 বা সমপর্যায়ের)
-
লেবুর রস – ৫ ফোঁটা (সেন্সিটিভ স্কিন হলে বাদ দিন)
-
গোলাপজল – ১ চা চামচ
ব্যবহারবিধি:
-
সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে একটি ছোট কাচের বোতলে সংরক্ষণ করুন।
-
রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ধুয়ে এই মিশ্রণ হালকা হাতে ম্যাসাজ করে লাগান।
-
সকালে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
উপকারিতা:
-
গ্লিসারিন: ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখে।
-
ভিটামিন ই: কোষ পুনর্গঠন করে, দাগ হালকা করে।
-
লেবুর রস: হালকা স্কিন পিলিং করে, রঙ ফর্সা করে।
-
গোলাপজল: ত্বক ঠাণ্ডা করে ও টোনার হিসেবে কাজ করে।
অতিরিক্ত টিপস:
-
সপ্তাহে ২ দিন ওটস বা বেসন দিয়ে স্ক্রাব করুন (মরা কোষ দূর করতে)।
-
প্রচুর পানি পান করুন এবং ফলমূল খান।
-
রোদে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
-
দিনে পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোও ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
-
শুষ্ক (Dry) – সহজে খসখসে হয়ে যায়, ফাটে
-
তৈলাক্ত (Oily) – সবসময় তেলতেলে দেখায়, ব্রণ হয়
-
মিশ্র (Combination) – টি-জোন (নাক, কপাল, চিবুক) তৈলাক্ত, বাকি অংশ শুষ্ক
-
সংবেদনশীল (Sensitive) – সহজে লাল হয়ে যায় বা চুলকায়
চমৎকার! আপনার ত্বক মিশ্র (combination), মানে টি-জোন (কপাল-নাক-চিবুক) তৈলাক্ত আর বাকি অংশ শুষ্ক। এ ধরনের ত্বকের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ যত্ন প্রয়োজন—যাতে তেল নিয়ন্ত্রণ হয়, আবার আর্দ্রতাও বজায় থাকে।
এখানে আপনার জন্য সম্পূর্ণ স্কিনকেয়ার রুটিন দিলাম:
প্রতিদিনের রুটিন:
সকালে:
-
ক্লেনজার:
– মৃদু জেল বেসড ক্লেনজার (যেমন Himalaya Oil Clear Gel Face Wash)। -
টোনার:
– গোলাপজল বা খাঁটি পাতাজল (রূপচাঁদা/বনফুল)। -
সিরাম (ঐচ্ছিক):
– অ্যালোভেরা জেল + ১ ফোঁটা ভিটামিন ই মিশিয়ে নিন। -
ময়েশ্চারাইজার:
– Water-based moisturizer (যেমন Ponds Light Moisturizer)। -
সানস্ক্রিন:
– SPF 30+ লাগান রোদে বের হওয়ার ১৫ মিনিট আগে।
রাতে:
-
ক্লেনজার:
– আগের মতোই জেল বেসড ক্লেনজার। -
ডিপ ক্লিনিং টোনার:
– ১ চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার + ৩ চা চামচ পানি (সপ্তাহে ৩ দিন)। -
নাইট সিরাম:
– গ্লিসারিন ১ চা চামচ + ভিটামিন ই ক্যাপসুল ১টি + গোলাপজল ১ চা চামচ
– মুখে লাগিয়ে রাখুন (পাতলা করে)। -
চোখের নিচে:
– ভিটামিন ই-এর তেল আলতো করে লাগান।
সাপ্তাহিক যত্ন:
১. স্ক্রাব (সপ্তাহে ২ দিন):
-
উপকরণ: বেসন ১ চা চামচ + দুধ বা টক দই + সামান্য মধু
-
মুখে হালকা ঘষে ১–২ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
২. ফেসপ্যাক (সপ্তাহে ২ দিন):
-
উপকরণ:
– মুলতানি মাটি ১ চা চামচ + গোলাপজল + সামান্য হলুদ
– মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
বিশেষ যত্ন (ছোপ ও গর্তের জন্য):
-
রাতের সিরামে ভিটামিন ই একটু বেশি দিন।
-
চন্দন গুঁড়ো + গোলাপজল লাগালে দাগ-ছোপ হালকা হয়।
-
ব্রণের গর্ত কমাতে নিয়মিত মাস্ক ও পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।